রাজধানীতে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। হঠাৎ করেই যেন বেড়ে গেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা ৪৫ মিনিটের সময়ে শাহআলী থানাধীন হাজী রোডের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন দৈনিক "অন্যায়ের চিত্র" পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি এস এম রাসেল। এ সময় লাল রংঙ্গের মোটরসাইকেল (হুন্ডা) করে হেলমেটপড়া দুই ছিনতাইকারী হটাৎ করে হ্যাঁচকা টানদিয়ে তার (ডিএসএলআর) ক্যামেরাসহ ব্যাগে থাকা মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ বিষয়টি শাহআলী থানার ওসি এবিএম আসাদুজ্জামানকে অবহিত করাহলে তিনিসহ ওসি অপারেশন জাহিদুর রহমান ঘটনা স্থলে আসেন এবং চেকপোস্ট বসান। পরে বিভিন্ন হুন্ডা তল্লাশি করেন এবং আশ পাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেন পুলিশ সদস্যদের । এ ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদ কর্মীরা জানতে পেরে তারাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দুঃখ প্রকাশ করে। পরে সংবাদ কর্মীরা অতি দ্রুততার সাথে ছিনতাইকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ক্যামেরা উদ্ধারের দাবী জানান। তবে ৫ দিন অতি বাহীত হলেও উদ্ধার হয়নি ক্যামেরা ও ছিনতাই হওয়া মালামাল এবং সিসি ফুটেজ উদ্ধার হলেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি ছিনতাইকারীদের এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদ কর্মীরা।
এছারাও প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে কোথাও না কোথাও। দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে এ ছিনতাইকরী চক্রের দৌরাত্ম্য। তারা এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের হাতে একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছিনতাইকারীদের শিকারের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ মানুষ, ছাত্র, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, ডাক্তার, নার্স, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তারাও। ছিনতাইকারীদের গুলি, ছুরিকাঘাত ও হ্যাঁচকা টানে গাড়ির নিচে পড়ে প্রাণ যাচ্ছে আবার অনেকের।
এ বিষয়ে শাহআলী থানার ওসি এবিএম আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি অতিদ্রুতই ছিনতাইকৃত মালামাল এবং আসামিদের গ্রেফতার করাহবে ইনশাহ্আল্লাহ।
ওসি অপারেশন জাহেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি খুবি দুঃখজনক তবে আমরা সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করব এতে কোন ত্রুটি হবেনা। এ ঘটনায় ভুক্তভুগী সাংবাদিক শাহআলী থানাতে একটি লিখিত অভিযোগদেন যার তদন্ত চলছে মামলা প্রকৃয়াধীন রয়েছে।
কোনো একটি ঘটনা ঘটার পর র্যাব, পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে ফের একই পেশায় নিয়োজিত হয়। তাই বেড়েই চলছে ছিনতাই। তবে ঝামেলা এড়াতে ছোটখাটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানামুখী হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনেক ভুক্তভুগী।